কিশোরগঞ্জ সদর-হোসেনপুর আসনে নৌকার প্রার্থী জয়ী হওয়ার জোর গুঞ্জন  


admin প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৩, ২০২৪, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন /
কিশোরগঞ্জ সদর-হোসেনপুর আসনে নৌকার প্রার্থী জয়ী হওয়ার জোর গুঞ্জন  

নিজস্ব সংবাদদাতা :

কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন তার আপন বড় ভাই মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলাম। দুজনেই মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের সন্তান। বড় ভাই আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধ সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুর পর থেকে সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি এ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবারও দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। তার আপন বড় ভাই মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে সমর্থন দিয়েছেন শুধুমাত্র চাচাতো ভাই জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু। নৌকার প্রার্থী লিপিকে বিজয়ী করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে পরিবারের সকল সদস্যই ভোটের মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ প্রার্থী সদর-হোসেনপুরে তার দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে পাচ্ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলাম রাজনীতিতে নতুন সৈয়দ পরিবারের সন্তান হিসেবে ভোটারদের কাছে তেমন গ্রহণযোগ্যতা চোখে পড়ার মতো নয়। দুই প্রার্থীকে নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছিল তা এখন আর নেই। এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাকিয়া নূর লিপিকে এ ভোটযুদ্ধে বিজয়ী করতে দলীয় নেতাকর্মীরা কোমর বেদে মাঠে নেমে পড়েছেন। জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে রয়েছেন, এমন একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে দলের নেতাকর্মীরা নৌকাকে বিজয়ী করতে প্রতিটা ভোটারের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছেন। তিনি আরও জানান, আসনটিতে অতীতের ন্যায় এবারও নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হবে। তাদের পোস্টার-ব্যানারে সদর ও হোসেনপুর উপজেলার রাস্তাঘাট ছেয়ে গেছে, চলছে মাইকিং। দু’জনই সভা-সমাবেশে বড়ভাই আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্বপ্ন ও অসম্পূর্ণ কাজগুলো শেষ করতে ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটের মাঠ সক্রিয় রয়েছেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি বলেন, তিনি যেসব উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন, ভোটাররা সেগুলোর বিচার বিবেচনা করে ভোট দেবেন। আশা করি এবারও ভোটাররা সংসদ সদস্য হিসেবে আমাকে বেছে নেবেন। তিনি আরও জানান নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী। অন‌্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলাম বিভিন্ন পথসভা ও জনসভায় বক্তব্যের মাধ্যমে বলছেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন করার পাশাপাশি হাসপাতালটিকে সাইজ করবেন। আমি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন সঠিক পথে পরিচালিত হবে। আসনটিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আবদুল হাই লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এ প্রার্থী পেশায় চিকিৎস। তিনি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও একবার নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। কিশোরগঞ্জ-১ আসনে গণতন্ত্রী পার্টির অ‌্যাডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন (কবুতর)সহ মোট ৭জন প্রার্থী থাকলেও এ তিন-চারজন প্রার্থী ছাড়া অন্য কোনা প্রার্থীর প্রচারণা চোখে পড়েনি। ওইসব প্রার্থীর পোস্টার-ব্যানার কিংবা নির্বাচনি অফিসও দেখা যায়নি। ওই প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোবারক হোসেন (ডাব), ইসলামী ঐক্যজোটের মো. আশরাফ উদ্দিন (মিনার), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আনোয়ারুল কিবরিয়া (আম) ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. আব্দুল আউয়াল (ছড়ি)। কিশোরগঞ্জ-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৩ হাজার ৯৭৮জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৬০হাজার ৪০৪জন। নারী ভোটার ২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৭১জন। ৭ জানুয়ারি ভোটের ফলাফলেই নির্ধারিত হবে কে হচ্ছেন এ আসন টির সংসদ সদস্য