কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দালাল মুক্ত সেবা পাচ্ছে, সেবা গ্রহিতারা


admin প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৩, ৭:২৫ অপরাহ্ন /
কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দালাল মুক্ত সেবা পাচ্ছে, সেবা গ্রহিতারা

হারিছ আহমেদ, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:

“দালালদের আধিপত্যের দিন শেষ-এটা হলো জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছে কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস।পাসপোর্ট অফিসে যাকে তাকে দিয়ে পাসপোর্ট আবেদনকারীর ফরম গ্রহন না করায় সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরে পেয়েছে।

পাসপোর্ট অফিসে বর্তমানে চিরচেনা দালালদের নেই আনাগোনা।পাসপোর্ট আবেদনকারীরা তাদের আবেদন জমা দিচ্ছেন এবং খুব শক্তভাবে সিরিয়াল মানা হচ্ছে।কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসটি স্বচ্ছতার সহিত পরিচালিত হচ্ছে। পাসপোর্ট অফিসের প্রচার এবং সেবা সহজ হওয়ায় আবেদনকারীরা পাসপোর্ট করতে এসে সাচ্ছন্দবোধ করছেন।

এখানে পাসপোর্টের আবেদন ফরম জমা দিতে আসেন সাধারন মানুষ।ফিঙ্গার প্রিন্ট থেকে ডেলিভারী পর্যন্ত গ্রাহক এখন সব ভোগান্তি থেকে মুক্ত।ফুরিয়ে গেছে দালালদের প্রয়োজনীয়তা। সরকার নির্ধারিত সময়ে হয়রানী ও প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই সঠিকভাবে গ্রহিতার হাতে পৌছে যাচ্ছে পাসপোর্ট।বিগতদিনে মানুষকে পাসপোর্ট অফিসে ঘুরতে হতো দিনের পর দিন।অগত্যা ঝামেলা এড়াতে টাকা দিয়ে ধরতে হতো দালাল।আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ব্যবস্থাপনার পরিবর্তনে গ্রাহকের ভোগান্তি কমেছে।সেবা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছে পাসপোর্ট করতে আসা সাধারন জনগণ।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাসপোর্ট আবেদন, জমাদান, ফিঙ্গার প্রিন্ট থেকে ডেলিভারী পর্যন্ত সব ভোগান্তি থেকে মুক্ত এখন গ্রাহকরা।নির্বিঘ্নে এখন সব কাজ চলছে সরকারী নিয়ম নীতি অনুস্মরণ করে।সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন মানুষ। কেউ হারিয়ে ফেলেছেন পাসপোর্ট, কেউ নতুন পাসপোর্ট করছেন।আবার কারও পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।চাহিদা অনুযায়ী কাউন্টারে দেয়া হচ্ছে দ্রুত সেবা।যে কোন সমস্যা হলে দ্রুত সমাধান করছে পাসপোর্ট অফিস। পুরোপুরি ডিজিটাল সেবা।

জানা যায়, কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আইরিন পারভীন ডালিয়া দালালদের দৌরাত্ম আর দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো ট্রলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করায় গ্রাহক সেবার মান যেমন একদিকে প্রশংসনীয় ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি বৃদ্ধি পেয়েছে কর্মকর্তা, কর্মচারীদের কর্মচাঞ্চল্য আর সরকারী রাজস্ব আদায়ের পরিমাণও।পাসপোর্ট অফিসের সেবা গ্রহিতারা পাসপোর্ট অফিসের সেবাদানে প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

উপ-সহকারী পরিচালক মোঃ আজিজুল হক জানান, পাসর্পোট অফিসের ভিতরে কোনো দালাল চক্র সক্রিয় নেই।প্রতিদিন অফিসের গেইটের সামনে বাংলাদেশ পুলিশের এ এস আই ১ জন ও কনস্টেবল ৪/৫ জন সহ আনসার বাহিনী সার্বক্ষণিক দালাল চক্রের হাতে যেন সাধারণ মানুষ কোনো প্রকার হয়রানির শিকার না হয়।সেই দিকে লক্ষ রাখছে। এবং সরকারি নিয়ম মেনে সাধারণ মানুষকে সেবা দেওয়া হচ্ছে।এছাড়া সময়মত এবং দিনে দিনে পাসপোর্ট বিতরণের লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ পোষ্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সকাল ৯ ঘটিকার মধ্যে পাসপোর্ট অফিসে ডাক পৌঁছানোর নিশ্চিত করা হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষ সুফল পাচ্ছে এবং পোস্ট অফিস থেকে ডাক পাওয়া মাত্রই পাসপোর্ট বিতরণ করা হচ্ছে।ইতিপূর্বে দেরিতে পাসপোর্টের ডাক আসতো।যার ফলে দিনের পাসপোর্ট দিনেই ইস্যু সম্ভব হতো না।

এ কারণে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক সেবা গ্রহীতা পাসপোর্ট না নিয়েই ফিরে যেতেন।অন্যদিকে, সপ্তাহে একদিন গণশুনাণীর সরকারী নির্দেশনা থাকলেও প্রতিদিন গণশুনাণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেবা প্রার্থীদের অভিযোগ নিষ্পতি করে যথাযথভাবে রেজিস্টার সংরক্ষণ করা হচ্ছে। নিয়মিতভাবে আবেদনপত্র এ্যাপ্রোভাল দিয়ে মডিউল শূন্য রাখাসহ সময়মত পাসপোর্ট পাওয়া নিশ্চিত করা হচ্ছে।উপ-সহকারী পরিচালক মোঃ আজিজুল হক সকলের কাছে আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

হিসাব সহকারী মোঃ আশরাফ আলী বলেন স্যারের নির্দেশনা মতেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি অফিস টাইম ৯টা হতে ৪ টা পর্যন্ত কিন্তু আমরা প্রতি দিনের কাজ প্রতি দিন শেষ করেই আমাদের বাসায় ফেরা হয়।