কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্য সাজনপুর (আঠারবাড়িয়া) গরুর হাট


admin প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৯, ২০২৩, ১:১৫ অপরাহ্ন /
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্য সাজনপুর (আঠারবাড়িয়া) গরুর হাট

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কিশোরগঞ্জ জেলার ঐতিহ্য নিকলী উপজেলার বৃহত্তর গরুর হাট ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগমে মুখরিত থাকে সপ্তাহে একদিন বুধবার।উপজেলা জারইতলা ইউনিয়নের সাজনপুর (আঠার বাড়িয়া) বাজারে গরুর হাটটি বেশ কয়েক বছর ধরে কিশোরগঞ্জ জেলার মধ্যে বৃহত্তর হাট হিসাবে ঐতিহ্য বহন করে আসছে। ক্রেতা-বিক্রেতা প্রত্যেকে দুইশত টাকা করে একটি গরু-মহিষ ক্রয়-বিক্রয়ে দিতে হয়। ছাগল-ভেড়া বিক্রির জন্য ক্রেতা-বিক্রেতা প্রত্যেকে একশত টাকা করে ইজারা দিতে হয়।সরজমিনে গরুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলাসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বি-বাড়িয়া, নেত্রকোনা, নরসিংদী, গাজিপুর, মনোহরদী সহ,বিভিন্ন জেলার পাইকাররা এই গরুর হাটে নিরাপত্তার কারণে গরু, মহিষ, ছাগল সূলভ মূল্যে কিনতে পারেন বলে জানা যায়।প্রতি ছোট গরুর দাম এই বছর ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা, মধ্যম সাইজের গরু ৭০হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকায় ও বড় গরু ১ লক্ষ টাকা হতে দেড়-দুই লক্ষ টাকায় কিনতে পারে বলে বেশ কয়েকজন ক্রেতা-বিক্রেতা জানিয়েছেন।অপরদিকে প্রতি ছাগলের মূল্য ছোট ৫-৭ হাজার থেকে ১৫-২০ হাজার টাকার মধ্যে ছাগল কেনা যায়।মহিষ প্রতিটির দাম ৬০ হাজার টাকা থেকে এক লক্ষ টাকার মধ্যে কিনতে পারেন বলে অনেক ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে জানা যায়।এ ব্যাপারে সাজনপুর (আঠারবাড়িয়া) গরুর হাটের ইজারাদার মো. আলম মিয়া জানান, এই বাজারে বিভিন্ন নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা ক্রেতা-বিক্রেতাদের সেবা দিয়ে আসছি।এবছর গরুর হাটটি ভ্যাট-আয়করসহ ২৮ লক্ষ ৬ শত ১০ টাকা দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কার্যালয় থেকে ইজারা নিয়েছি।তিনি আরো জানান, যেটাকা দিয়ে আমরা বাজার ইজারা নিয়েছি তার থেকে বেশি আয় হলে সাজনপুর দাখিল হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দেওয়া বাবৎ ব্যয় করা হয়।তাছাড়াও এলাকায় বিভিন্ন মসজিদ-সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ও অসহায়দের কল্যাণে দান করা হয়।এ বিষয়ে বাজার কমিটি সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক জানান,সাজনপুর (আঠারবাড়িয়া) গরু-ছাগলের হাটটি কিশোরগঞ্জ জেলার সবচেয়ে বৃহৎ হাট।বাজারটিতে ক্রেতা বিক্রিয়াতা যাতে করে কোন ধরনের সমস্যায় না পড়ে সেজন্যে আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তার মাধ্যমে পরিচালনা করছি।উল্লেখ্য: ইতিপূর্বে ঐতিহ্যবাহী এ বাজারটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে “সরকারি প্রাথমিক স্কুল মাঠে গরুর হাট” শিরোনামে যাহা সম্পূর্ণ অসত্য ও বানোয়াট।এ বিষয়ে গরুর হাটের উপদেষ্টা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম মানিক জানান, স্থানীয় সাংবাদিক আলী জমশেদ বাজার কমিটির কাছে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করেছিল, কমিটি তার এই অন্যায় আবদার প্রত্যাখ্যান করায় বাজারটির বিরুদ্ধে সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বানোয়াট অসত্য নিউজ ফেসবুক সহ গণমাধ্যমে দিয়ে আসছে।এ ব্যাপারে আঠারবাড়ি ২৭ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আউয়াল এর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিকলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার সরজমিনে বাজারটি পরিদর্শন করে,পরামর্শ দিয়েছেন স্কুল বাউন্ডারিতে যেন একটি পর্দার ব্যবস্থা করা হয়, স্যারদের পরামর্শের আলোকে বাজার কমিটি একটি পর্দা দিয়ে স্কুলের এক পাশ প্রতি বুধবার হাটবারের দিন ডেকে দেওয়ার ফলে স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রমের কোন সমস্যা হয় না, এ ব্যাপারে আমার কোন অভিযোগ নেই।নিকলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাকিলা পারভীন জানান, নিকলীর সাজনপুর গরুর হাটটি জেলা বৃহত্তর গরুর হাট উল্লেখ করে তিনি জানান, স্কুল মাঠে গরুর হাট না বসানোর নির্দেশনা ইতিপূর্বেই দেয়া হয়েছে।