ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার পাওয়া গেল প্রায় ৬ কোটি টাকা


admin প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৯, ২০২৩, ১০:১৫ অপরাহ্ন /
ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার পাওয়া গেল প্রায় ৬ কোটি টাকা

শাহজাহান সাজু (নিজস্ব) প্রতিবেদক:

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার পাওয়া গেছে ২৩ বস্তা টাকা।শনিবার (১৯ আগস্ট) সকালে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।ঐতিহাসিক এ মসজিদটিতে রয়েছে ৮টি দানবাক্স।প্রতি তিন মাস পর পর এই বাক্সগুলো খোলা হয়।এবার খোলা হয়েছে ৩ মাস ১৩ দিন পর।৮টি দান বাক্সের ২৩ বস্তা টাকা গুনে এবার পাওয়া গেল রেকর্ড পরিমাণ ৫ কোটি ৭৮ লাখ ৯ হাজার ৩২৫ টাকা।জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক কাজী মহুয়া মমতাজের তত্ত্বাবধানে সকাল সোয়া আটটার দিকে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।আচটটি দানবাক্স খুলে পাওয়া গেছে ২৩ বস্তা টাকা।সকাল থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত গুনে এবার পাওয়া গেল রেকর্ড পরিমাণ ৫ কোটি ৭৮ লাখ ৯ হাজার ৩২৫ টাকা।।তিনি আরও জানান, টাকা গণনা কাজে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এ.টি.এম ফরহাদ চৌধুরী, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর শেখ জাবের আহমেদ, সিনিয়র সহাকারী কমিশনার (ভূমি) নাশিতা-তুল ইসলাম, তানিয়া আক্তার, নাবিলা ফেরদৌস, মাহমুদা বেগম সাথী, ফাতেমা-তুজ-জোহরা, মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খলিলুর রহমান, রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রফিকুল ইসলাম, মাদ্রাসার ১১২ জন ছাত্র, ব্যাংকের ৫০ জন স্টাফ, মসজিদ কমিটির ৩৪ জন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ জন সদস্য অংশ নেন।দানবাক্সগুলো খোলার পর গণনা দেখতে দূর দূরান্ত থেকে আসা উৎসুক লোকজন মসজিদের আশপাশে ভিড় করেছেন।এর আগে গত ৬ মে দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল।১৯টি বস্তায় তখন রেকর্ড ৫ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৮৯ টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গিয়েছিল।এছাড়াও মসজিদে নিয়মিত হাঁস–মুরগি, গরু–ছাগলসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র দান করেন অসংখ্য মানুষ।মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত উদ্দিন ভূইয়া জানান, করোনা সংক্রমণের শুরুতে মসজিদে মুসল্লিদের চলাচল এবং নারীদের প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকলেও দান অব্যাহত ছিল।তিনি আরও জানান, পাগলা মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্সের খরচ চালিয়ে দানের বাকি টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়। এ থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেয়া হয়। অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্তদের সহায়তাও করা হয়।উল্লেখ্য: জেলা শহরের পশ্চিম পাশে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দার তীরে ৩ একর ৮৮ শতাংশে জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্স।